Showing posts with label JAMALPUR. Show all posts
Showing posts with label JAMALPUR. Show all posts

Thursday, December 28

STATEMENT: JMBF Calls for Justice and Accountability for the Alleged Two Deaths Due to Torture under Police Custody in Jamalpur & Habiganj

Paris, France; December 28, 2023: JusticeMakers Bangladesh in France (JMBF) is gravely concerned and outraged over the alleged death of Anwar Hossain and Golam Rabbani due to torture in police custody at Sarishabari Police Station under Jamalpur district and Baniachang Police Station under Habiganj district in Bangladesh, on December 26, 2023.

JMBF demands exemplary punishment for the culprits involved in the alleged gross human rights violation, investigating by forming an inquiry committee led by a judicial magistrate to ensure the highest levels of integrity and transparency in the proceedings.

Multiple news sources reported that Anwar Hossain (45) of village Chaparkona under Sarishabari police station in Jamalpur district was arrested on December 26 in the afternoon in connection with a case filed on December 25 for locking into an altercation with one Firoz Mia in Chaparkona market on December 10. Mushfiqur Rahman, officer-in-charge of Sarishabari police station, said Anwar fell ill after being brought to the police station on Tuesday evening. He died while being taken to Sarishabari Upazila Health Complex around 1 am. Mehedi Hasan, the duty doctor of Sarishabari Upazila Health Complex, said Anwar was brought dead to the hospital. An ECG was also performed to confirm his death. Police later handed over his dead body to his family after the completion of the autopsy by Jamalpur General Hospital. However, the deceased’s family claimed that Anwar died due to torture in custody. Anwar's wife, Alpana Begum, said that her husband was completely sound when he was picked up by the police, and her husband was killed due to torture by police in Sarishabari police station. His sister, Nurjahan Begum, demanded justice for the killing of her brother. Meanwhile, Sub-Inspector Sohel Rana, the investigating officer of the case, denied the family’s torture and murder allegations.

প্রেস বিবৃতি: জামালপুর ও হবিগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে শারীরিক নির্যাতনে দুই আসামী নিহতের অভিযোগের ঘটনায় জেএমবিএফ বিচার বিভাগীয় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

প্যারিস, ফ্রান্স; ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩: গত ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বাংলাদেশের জামালপুর জেলার অন্তর্গত সরিষাবাড়ী থানায় এবং হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত বানিয়াচং থানায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের কারণে আনোয়ার হোসেন ও গোলাম রব্বানী নামক দুইজন গ্রেফতারকৃত আসামীর কথিত মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় ফ্রান্স ভিত্তিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।



জেএমবিএফ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নিরপক্ষে তদন্তের মাধ্যমে উল্লেখিত মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনজনিত ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের খুজে বের করে দ্রুত স্বচ্ছ বিচারের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জোড় দাবি করেছে।


বাংলাদেশে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী থানাধীন চাপরকোনা গ্রামের আনোয়ার হোসেনকে (৪৫)গত ২৬ ডিসেম্বর বিকেলে চাঁপারকোনা বাজার থেকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুশফিকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনোয়ারকে থানায় আনার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। মধ্যরাত ১টার দিকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

Wednesday, December 27

পুলিশের হেফাজতে মৃত্যু: পরিবারের দাবি হত্যা, পুলিশ বলছে স্ট্রোক

জামালপুরের সরিষাবাড়ী থানা হাজতে আসামির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ বলছে, স্ট্রোক করে তিনি মারা গেছেন।

মারা যাওয়া আনোয়ার সরিষাবাড়ীর ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা গ্রামের আব্দুস সামাদ দুলুর ছেলে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

জামালপুরে পুলিশি হেফাজতে আসামির মৃত্যু, পরিবারের দাবি ‘নির্যাতনে হত্যা’

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পুলিশ হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, “স্ট্রোক” করে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে তাকে। এ ঘটনার বিচার দাবি করেছে তারা।

মারামারির অভিযোগে হওয়া মামলায় সরিষাবাড়ীর ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনার বাসিন্দা আনোয়ার হেসেনকে (৪৫) মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিন রাতেই “স্ট্রোক” করলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।

Monday, November 13

তৃতীয় লিঙ্গের দেলুর বিলাসবহুল বাড়ি আছে স্ত্রী-সন্তানও

জামালপুরের তৃতীয় লিঙ্গেও (হিজড়া) দেলুর আসলে একজন পুরুষ। তার ছেলে-মেয়ে আছে। ছেলে বিয়েও করেছেন। তারপরও তিনি তৃতীয় লিঙ্গ সেজে নানা কৌশলে দলবেধে চাঁদাবাজি করছেন। তার নিজস্ব গ্রæপও রয়েছে। তিনি অনেক ব্যক্তিকে ডাক্তারের মাধ্যমে অপারেশন করিয়ে তৃতীয় লিঙ্গ বানিয়েছেন। তারা এখন পথে পথে টাকা আদায় করছেন।

চাঁদার টাকায় দেলু জামালপুরে তিনতলা ফাউন্ডেশনের বাড়িও করেছেন। সেখানে টাইলস দিয়ে ইতোমধ্যে এক তলা বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ করে বসবাস করছেন। ইতোমধ্যে আরও অনেককে অপারেশন করিয়ে মেয়ে হিজড়া সাজিয়ে চাঁদা আদায় করছেন। চাঁদার টাকার ভাগও পান তিনি।

Tuesday, November 7

জামালপুর কারাগারে সাড়ে ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই কয়েদির মৃত্যু

জামালপুর কারাগারে বন্দী দুই কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামালপুর কারাগারের জেলার আবু ফাতাহ।

মারা যাওয়া কয়েদিরা হলেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার কাঙ্গালকুশা গ্রামের ইয়াকুব আলী (৬৫) ও মাদারগঞ্জ উপজেলার কুমরাকান্দি গ্রামের শাহীন হাওলাদার (৪০)। তাঁদের মধ্যে ইয়াকুব আলী হত্যা মামলায় যাবজ্জজীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। তিনি ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট থেকে কারাগারে ছিলেন। আর শাহীন তিনটি মাদক মামলায় চলতি বছরের ৩১ আগস্ট থেকে কারাগারে ছিলেন। তাঁদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

Monday, September 25

বকশিগঞ্জে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি

জামালপুরের বকশিগঞ্জে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে দৈনিক দেশের কণ্ঠ পত্রিকার সাংবাদিক এম এ সালাম মাহমুদকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।


রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিক এম এ সালাম মাহমুদের ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী। হত্যার হুমকি দেওয়া অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন পলাশ বকশিগঞ্জ যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য। তবে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বকশিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

Thursday, August 17

জামালপুর রেল স্টেশনে হামলার শিকার সাংবাদিক

জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক খলিলুর রহমান। টিকিট কাউন্টারের খাইরুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক তার ওপর হামলা করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় জিআরপি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।


জিডি সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেইল অনলাইনের স্টাফ রিপোর্টার খলিলুর রহমান বুধবার (১৬ আগস্ট) ভোরে ব্যক্তিগত কাজে ঢাকা হতে জামালপুরে আসেন। কাজ শেষে বুধবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকায় ফেরার জন্য জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট সংগ্রহের জন্য যান। ঢাকার টিকিট চাইলে কমিউটার ট্রেন কাউন্টারের দায়িত্বরত টিকিটদাতা একটির জন্য তিনটি টিকিট নিতে বলেন। এ সময় নিরুপায় হয়ে তিনি তিনটি টিকিট নেন। তবে এর কারণ জানতে চাইলে কাউন্টারে থাকা কয়েকজন যুবক সাংবাদিক খলিলকে গালিগালাজ ও হুমকি ধমকি দেন। পরে এসব অনিয়ম মোবাইলে ধারণ করতে থাকলে কাউন্টার হতে খাইরুল ইসলাম নামের একব্যক্তি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ও খলিলুর রহমানের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে জিআরপি থানায় একটি জিডি দায়ের করেন।

Saturday, August 12

জামালপুরে পেয়ারা দেয়ার কথা বলে শিশু বলাৎকার, অভিযুক্ত গ্রেফতার

জামালপুরে পেয়ারা দেয়ার কথা বলে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের ঘটনায় আব্দুর রশিদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার আব্দুর রশিদ। ছবি: সময় সংবাদ


শনিবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টায় পৌর শহরের লাঙ্গলজোড়া এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতার আব্দুর রশিদ পৌর শহরের চালাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল মোমেন বেপারির ছেলে।

Sunday, July 16

সরিষাবাড়ীতে ককটেলসহ আইনজীবী গ্রেফতার

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ককটেলসহ আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার (১৫ আগষ্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের সেঙ্গুয়া গ্রামথেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করেছে থানা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগষ্ট জামায়াত ইসলামীর ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলার পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের সেঙ্গুয়া গ্রামের হাজীবাড়ী মোড়ে জামায়াত ইসলামীর গোপন বৈঠকে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের আগমন জানতেপেরে বৈঠকের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ৩টি ককটেল, ভাঙ্গা ইট ভর্তি একটি প্লাস্টিক ব্যাগ ও বিভিন্ন আকৃতির ১০টি বাঁশের লাঠি সহ মহাদান ইউনিয়নের সেঙ্গুয়া গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে আইকর আইনজীবী বেলাল হোসেন খানকে আটক করে পুলিশ।

Friday, June 16

ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে সাংবাদিক হত্যা

বাসায় ফেরার পথে জামালপুরের বকশীগঞ্জে চলন্ত মোটরসাইকেল থামিয়ে সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিমকে (৪৩) প্রথমে কিছু সময় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর ১৪-১৫ জনের একটি গ্রুপ তাঁকে টেনেহিঁচড়ে এলোপাতাড়ি কিলঘুসি মারতে থাকে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। মারধরে আহত নাদিমকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।

নাদিম বাংলানিউজের জামালপুর প্রতিনিধি ও বকশীগঞ্জে একাত্তর টিভির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। ১৫ বছর ধরে স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।


নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম বাবু ও তাঁর ছেলে ফাহিম ফয়সাল রিফাতের নেতৃত্বে হামলা হয়। পুলিশ ছয়জনকে আটক করলেও চেয়ারম্যান পলাতক।


তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র সমকালকে জানায়, হামলার সময় চেয়ারম্যান বাবু ঘটনাস্থলে ছিলেন। তিনি হত্যা মিশনের নেতৃত্ব দেন। হামলাকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে সবকিছু তদারক করেন বাবু। পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলকারীদের মধ্যে দুটি গ্রুপ ছিল। একটি ভাড়াটে এবং আরেকটি বাবুর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী। হামলাকারী আটজনের পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও তাঁতী লীগের একাধিক নেতাও রয়েছেন। হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন সাধুপাড়া ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল, সাধুপাড়ার সাবেক এক ইউপি সদস্যের ছেলে মনির, বকশীগঞ্জ উপজেলা তাঁতী লীগের সাবেক সভাপতি রাকিব (বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক), সাধুরপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য গোলাম কিবরিয়া, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কফিল উদ্দিন, মো. তোফাজ্জেল, আইনাল হক, শহীদ ও ফজলু। তাঁরা সবাই চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ।
দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, যে স্থানে প্রথমে হামলা করা হয়েছে সেটি সিসি ক্যামেরার আওতাধীন। এটা হামলাকারীরা জানতেন। তাই প্রথমে সেখানে মারধর করার পর সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় বেদম পিটুনি দেওয়া হয়। ইট দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের কারও পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট, কারও ছিল লুঙ্গি। হামলার ঘটনা শোনার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে দৌড়ে গিয়ে নাদিমকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তাঁদের বক্তব্য নিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র বলছে, বাবু অনেক আগে থেকেই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। পুলিশ প্রশাসনের সাবেক এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার চাচাতো ভাই তিনি। তাঁর প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বৈধ-অবৈধ নানা কাজে কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তার ছায়ায় থাকায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস পেত না। অল্প সময় প্রচুর অর্থবিত্তের মালিকও হন বাবু।

প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলছেন, নাদিম অত্যন্ত সাহসী সাংবাদিক ছিলেন। অনিয়ম-অন্যায়ের সঙ্গে আপস করতেন না।

বকশীগঞ্জের নীলক্ষীয়া ইউনিয়নের গোমেরচর গ্রামে জন্ম নেওয়া সাংবাদিক নাদিম স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে উপজেলা শহরের কাচারিপাড়া এলাকায় একটি বাসায় বসবাস করতেন। তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন রিফাত ডিগ্রিতে, মেয়ে রাব্বিলাতুল জান্নাত অনার্সে ও ছোট ছেলে রিশাদ আবদুল্লাহ প্রথম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ময়মনসিংহ থেকে সন্ধ্যায় বকশীগঞ্জের বাসায় ফেরেন নাদিম। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে রাত ৯টার দিকে বাসা থেকে বকশীগঞ্জ বাজারে যান তিনি। রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় বকশীগঞ্জ সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা করে। এরপর নাদিমকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ ও পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে অবস্থার উন্নতি না হলে গতকাল সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে মারা যান নাদিম।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ বলেন, সুরতহালে নিহতের কপালের বাঁ দিকে কাটা জখম পাওয়া যায়। আঘাতজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশঘরের সামনে আহাজারি করেন নিহতের স্ত্রী ও সন্তানরা। নিহতের মেয়ে রাব্বিলাতুল জান্নাত বলেন, ‘নিউজ করার জেরে আমার বাবাকে ইউপি চেয়ারম্যান বাবুর নেতৃত্বে বাসায় ফেরার পথে চলন্ত গাড়ি থেকে টেনে নিয়ে চেয়ারম্যানের ছেলে ফাহিম ফয়সাল রিফাত, চেয়ারম্যানের কর্মী মনিসহ অন্যরা মারধর করে। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে। অচেতন অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। চেয়ারম্যান বাবুর নেতৃত্বে আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।’

নিহতের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। একজন সাংবাদিকের কাজ হলো সত্য প্রকাশ করা। এই সত্য লিখতে গিয়ে যদি সাংবাদিক হত্যা হয়, সেই হত্যার বিচার চাই। যেন আর কোনো সাংবাদিকের শরীরে হাত না দিতে পারে– এমন বিচার চাই।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, কৌশলে ফাঁদ পেতে সাবিনা ইয়াসমিন নামে এক নারীকে বিয়ে করেন বাবু। তাঁদের সংসারে এক কন্যাসন্তান হওয়ার পর চলতি বছরের ৮ মে তালাক দেওয়া হয় ওই নারীকে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক নাদিমসহ বকশীগঞ্জের আরও দু’জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আদালতে মামলা হয়। ময়মনসিংহ সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালত মামলাটি ৩০ মে খারিজ করে দেন। বুধবার নাদিম ময়মনসিংহে সাইবার ট্রাইব্যুনালে গিয়ে মামলা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

চেয়ারম্যানের করা মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নাদিম গত বুধবার একটি অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করে নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন। নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দেন। মূলত মামলা করেও সাংবাদিককে ঘায়েল করতে না পারায় চেয়ারম্যান বাবুর লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

ঘটনার পরপর পুলিশ আশপাশ থেকে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে শনাক্ত করতে পেরেছে। সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, হামলায় নেতৃত্ব দেন বাবুর ব্যক্তিগত সহকারী ও চেয়ারম্যান বাহিনীর প্রধান রেজাউল করিম। ইতোমধ্যে ছয়জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন বকশীগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা। তিনি আরও জানান, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন– সুমন মিয়া, তোফাজ্জল হোসেন, আইনাল মিয়া ও কফিল উদ্দিন।

একাধিক সূত্র বলছে, ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধ ছাড়াও হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা– তা নিয়েও তদন্ত চলছে। তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি নিয়েও সংবাদ প্রকাশ করেন। বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তান– এমন তথ্য দিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা লিখিত অভিযোগ ও প্রতিবাদ করলে তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন নাদিম। এর জেরে উপজেলা আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত উপজেলা যুবলীগ নেতা শামীম খন্দকার ও যুবলীগ কর্মী ইসমাইল হোসেন মণ্ডল তালুকদারের নেতৃত্বে এর আগে হামলা হয়েছিল নাদিমের ওপর। এই ঘটনায় নাদিম থানায় অভিযোগ দিলেও পরে সাংবাদিকদের মধ্যস্থতায় বিষয়টির সমাধান হয়।

জামালপুরের পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। হামলাকারীরা যত প্রভাবশালী হোক কোনো ছাড় পাবে না।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীনা বেগম বলেন, এ হত্যার ঘটনা দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকাছাড়া বাবু। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নাদিমের মৃত্যুর পর জামালপুর জেলাসহ সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। দুপুরে জামালপুর প্রেস ক্লাবে নাদিম হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভা থেকে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে বকশীগঞ্জ প্রেস ক্লাবও বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। হত্যার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন
https://samakal.com/whole-country/article/2306178453/%E0%A6%87%E0%A6%9F-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A5%E0%A6%BE-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%81%E0%A6%A4%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE

Monday, June 12

ভয় দেখিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকার: থানায় মামলা, শিক্ষক গ্রেপ্তার

জামালপুরের মেলান্দহে এক মাদ্রাসা ছাত্র (৮) কে বলাৎকারের অভিযোগে করা মামলায় শাহাদাত হোসেন নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (১১জুন) বিকালে উপজেলার কলাবাধা এলাকা থেকে শিক্ষককে গ্রেফতার করে সোমবার (১২জুন) সকালে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

Saturday, April 15

জামালপুরে সাংবাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলা

জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি, জামালপুর প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্য, বাংলানিউজ২৪.কম ও একাত্তর টিভির সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের উপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বকশীগঞ্জ মধ্যবাজারে এ ঘটনা ঘটে। সাংবাদিক নাদিমকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।