Showing posts with label HINDU. Show all posts
Showing posts with label HINDU. Show all posts

Sunday, March 3

গোপালগঞ্জে সেবাশ্রমে পূজারী নারীকে মুখ-হাত বেঁধে হত্যা

গোপালগঞ্জে মালিবাতা সেবাশ্রমের পূজারী হাসিলতা বিশ্বাসকে (৭০) মুখ ও হাত বেঁধে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। 





রোববার (৩ মার্চ) সকালে ওই আশ্রম থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার দিবাগত গভীর রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালিবাতা সেবাশ্রমে এ ঘটনা ঘটে। 

Monday, December 18

এক রাতে তিন মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর

উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল। ছবি : কালবেলা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক রাতে তিন মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ সনাতনী বিভিন্ন সংগঠন। রোববার (১৭ ডিসেম্বর) আলফাডাঙ্গা চৌরাস্তা এলাকায় এই মানববন্ধন হয়।

জানা গেছে, শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে আলফাডাঙ্গা পৌর সদরে একই রাতে ৩টি মন্দিরের অন্তত ১০টি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার আলফাডাঙ্গা চৌরাস্তা এলাকায় মানববন্ধন পালিত জয়। এ ছাড়া গতকাল শনিবার রাতে উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটি ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফরিদপুর-১ আসনের নৌকা মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহমান।

Friday, November 10

শৈলকুপায় রাজনীতিকদের লোভের বলি সংখ্যালঘুরা

শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে প্রয়াত সত্যেন্দ্রনাথ সাহা পরিবারের বাড়ি দখল করে আধুনিক ডিজাইনে নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা ‘মোল্লা টাওয়ার’। নিচতলায় সামনের অংশে মার্কেট, পেছনে আবাসিক ফ্ল্যাট। ওপরের তিনতলা আবাসিক ফ্ল্যাট। শৈলকুপা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম হোসেন মোল্লা ও তার বাবা উমেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সাবদার হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ ওই সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের।

শুধু সত্যেন্দ্রনাথ সাহার পরিবারই নয়, শৈলকুপায় এমন শত শত সংখ্যালঘু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে। বেদখল হয়েছে সম্পত্তি। সব হারিয়ে অনেকে থাকছেন ভাড়া বাসায়। দখলে যুক্ত প্রভাবশালীদের হুমকি-ধমকির কারণে অনেকে নিজ ভূমির মায়া ত্যাগ করে স্থায়ী আবাস গেড়েছেন ঢাকায়। ভুলেও এলাকামুখো হন না। দেড় দশক ধরে এমন অরাজকতা চললেও মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ প্রভাবশালী রাজনীাতিকরা। কারণ, এই দখলে জড়িত প্রায় সবাই রাজনৈতিক কর্মী। আর তাদের পেছনে আশীর্বাদের হাত রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যের। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ফের তাদের ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে। প্রায় প্রতিদিনই সম্পত্তি দখলের অভিপ্রায়ে চলছে মহড়া। হুমকি-ধমকি মারধর। মন্দিরে হামলা, সম্পত্তি দখল, প্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

সর্বশেষ গত সোমবার রাতে উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের কুঠিবাড়ি কালীমন্দিরের শিবমূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে ডাউটিয়া গ্রামে শতবর্ষী কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আর এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দিনার বিশ্বাস। তার বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান।


সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দখল করে ভবনটি নির্মাণ করা হয় প্রয়াত সত্যেন্দ্রনাথ সাহা পরিবারের ২৪ শতক জমি দখল করে। মূল্যবান এ জমি দখল করতে শামীম ও সাবদার সত্যেন্দ্রনাথের চাচাতো ভাই প্রশান্ত কুমার সাহাকে আয়ত্তে নেয়। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বায়নাপত্রের মাধ্যমে প্রশান্তকে পুরো জমির মালিক বানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০১৩ সালে প্রশান্তর কাছ থেকে এ জমি কিনে নেন বাবা-ছেলে। অতি গোপনে করা দলিলও করে ফেলা হয়। এরপর যখন দলবলসহ শামীম মোল্লা বাড়িটি দখল করতে যান, তখনই তা সত্যেন্দ্রনাথের পরিবারের দৃষ্টিতে আসে। এরপর তারা আদালতের আশ্রয় নেন। কিন্তু আদালতের নিষেধ উপেক্ষা করেই স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় সেখানে নির্মাণ করা হয় মোল্লা ভবন।

সত্যেন্দ্রনাথ সাহার ছেলে জ্যোতি প্রশাদ সাহার স্ত্রী মল্লিকা সাহা বলেন, আমাদের বাড়ি ও কালীমন্দির জোর করে শামীম মোল্লা দখল করে নেয়। আমি তখন সবার কাছে যাই, কিন্তু ন্যায়বিচার পাইনি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি আমরা যেন সুষ্ঠু বিচার পাই। তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল হাইয়ের কাছেও গিয়েছিলাম। কিন্তু এমপি আমাদের বললেন, ‘কাগজপাতি আছে তা আমি কী করব। কাগজপাতি ধুয়ে পানি খা গিয়ে। এরপর থেকে আর কারও কাছে যাই না। রেকর্ড তো আমাদের নামে আছে। জমি যাবে কোন জায়গায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমরা খুব অসহায়। কোথাও বিচার পাইনি। আমাদের সম্পত্তি ফেরত চাই। আমরা সুস্থ জীবনযাপন করতে চাই।’

শৈলকুপায় কালীমন্দিরে শিবমূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে গত সপ্তাহে। স্থানীয়রা বলছেন, কে বা কারা রাতের অন্ধকারে শিবমূর্তিটি ভেঙে রেখে পালিয়ে যায়। বিজুলিয়া কুঠিবাড়ি কালীমন্দিরের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ কুমার বলেন, ‘১০০ বছর ধরে আমাদের পূর্বপুরুষরা এখানে পূজা অর্চনা করে আসছেন। গতকালও দেখেছি মন্দিরের অভ্যন্তরে অবস্থিত মূর্তিগুলো ভালো ছিল। সকালে দেখছি মূর্তি ভাঙা। কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। এর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার আশা করছি।’

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন্দির পরিদর্শন করেছি। অতিসত্বর আমরা মন্দিরের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে শৈলকুপার ডাউটিয়া গ্রামের কালীমন্দিরের দরজার তালা ভেঙে প্রতিমা ভাঙচুর করে একদল লোক। প্রতিমার মাথা ২০০ গজ দূরে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকের বাড়ির পাশে ফেলে রাখে তারা। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরদিন মন্দির কমিটির সভাপতি সুকুমার মণ্ডল বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, দিনার বিশ্বাস নামে এক যুবকের পরিকল্পনা ও প্ররোচনায় গভীর রাতে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। দিনার বিশ্বাস শৈলকুপা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। তার বাবা মতিয়ার রহমান শৈলকুপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধলধরাচন্দ্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দিনার হোসেন ঘটনার দিন রাতে পাঞ্জাব আলী খানের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তুষার খান, আমজাদ হোসেনের ছেলে ও ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেনসহ তাকে বাড়িতে ডেকে আনে। পুলিশকে শায়েস্তা করতে হবে বলে পরিকল্পনা নেওয়া হয়। দিনারের নির্দেশে তিনিসহ সাজ্জাদ ও তুষার ডাউটিয়া কালীমন্দিরে ঢুকে কালিমূর্তির মাথা ভেঙে রাস্তায় ফেলে রাখে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখা, এবং ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করায় জেলার পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধেও বিষাদাগার করে ওই প্রভাবশালীরা। এর কিছুদিন পরই বদলি হন ওই পুলিশ সুপার।

গত বছরের ১ আগস্ট শৈলকুপা উপজেলার কামারিয়া গ্রামে আট হিন্দু বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই হামলার ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। ঘটনার এক দিন পর দায়ের করা মামলায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়। ১০ নম্বর বগুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শিমুলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ মেম্বার, ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি ফরিদ মুন্সী মেম্বরের নেতৃত্বে জুয়েল, ইফতি, বোরহান, হামজা, কামাল, আদরসহ ৪০ থেকে ৫০ জন ওই হামলায় অংশ নেয়।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামে ঢুকে প্রথমে চায়ের দোকানদার দেব কুমারের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং মারধর শুরু করে। সার ব্যবসায়ী বিকাশ মণ্ডল লাঙ্গলবাঁধ বাজার থেকে ফিরছিলেন। তার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। তাকেও মারধর করে। এরপর হামলাকারীরা বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে গালাগাল করে ত্রাস সৃষ্টি করে। বিভিন্ন ঘরে ঢুকে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। মামলার বাদী রতন চন্দ্র কুণ্ডু বলেন, মাঝে মাঝে সন্ত্রাসীরা এ গ্রামে এসে চাঁদা দাবি করে। না পেয়ে বকাবকি করে। চাঁদাবাজির কারণে এ হামলা হয়েছে।

স্থানীয় সংখ্যালঘু নেতাদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিনিয়তই শৈলকুপায় বসবাসরত হিন্দু ধর্মালম্বীদের বাড়িতে হুমকি-ধমকি চলে। দেশ ছাড়া করে জমি দখল করে নেবে—এমন হুমকি দেয় প্রভাবশালীরা। তারা বলছেন, এরই মধ্যে অনেকেই এলাকা ছাড়া হয়েছেন। অনেকে ভয়ে জমিজমা স্বল্পদামে বিক্রি করে দিয়েছেন। অনেকে আবার স্থায়ীভাবে শৈলকুপা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তারা বলছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে এসব বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানালেও তিনি আমলে নেন না। উল্টো নানাভাবে কটূক্তি করেন।

চলতি বছরের ১ এপ্রিল ঝিনাইদহ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এমপিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা। সম্মেলনে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কনক কান্তি দাস সভাপতিত্ব করেন।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘গত অক্টোবরে শৈলকূপা উপজেলার ডাউটিয়া গ্রামে শতবর্ষী কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও ধলহরাচন্দ্র ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বিশ্বাসের ছেলে দিনার বিশ্বাসের নেতৃত্বে। এ ঘটনায় হামলাকারীদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে পড়েছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল হাই। তিনি একাধিকবার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা কখনোই আওয়ামী লীগের মঙ্গল চান না।’

তারা বলেন, ‘এ সব নেতারা তাদের ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করার জন্য সবসময় ব্যস্ত থাকেন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা এমপি আব্দুল হাইয়ের মতো সংখ্যালঘুদের জমি দখল, বাড়িঘর ভাঙচুর, মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর ও নির্যাতনকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাদের আর যেন মনোনয়ন না দেওয়া হয়।

সব ধরনের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার কালবেলাকে বলেন, সামনে নির্বাচন। এ সময়ে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে না পারলে সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা বাধাপ্রাপ্ত হবে। সেইসঙ্গে এই অপকর্মে যুক্ত সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে না।

তিনি বলেন, আমরা সব ধরনের সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার নেপথ্যে থেকেও কেউ যদি ইন্ধন জোগায়, আমাদের দাবি থাকবে রাজনৈতিক দলগুলো সেইসব জনপ্রতিনিধিদের কোনো অবস্থাতেই যেন মনোনয়ন না দেয়।

https://www.kalbela.com/ajkerpatrika/lastpage/37663

Saturday, November 4

হাতীবান্ধায় শ্মশানের মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শ্মশানের মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের বুড়া সাড়ডুবি সার্বজনীন মহাশ্মশানে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শশ্মানের মন্দির ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে মহল ইসলাম গংদের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ১৯৩৫ সালে ওই শ্মশানটি স্থাপিত হয়। হঠাৎ করে গত কয়েক মাস ধরে শ্মশানের জমি নিজেদের দাবি করছেন মহল, রেজাউল, সাজু, দুলাল, মন্টুসহ আরও অনেকে। এ নিয়ে মন্দির কমিটির সাথে তাদের বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকালে দুর্বৃত্তরা ওই শ্মশানের ঘর ও মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর করে। পরে ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ওই মন্দিরের পূজারী নিরু বালা বলেন, আমি সকালে পূজা করে আসি। এ সময় অভিযুক্তরা লাঠি, পাথর ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে বলে ‘এ হিন্দু বেটি তোরা কীভাবে পূজা করিস আয়তো দেখি।’ এ কথা বলেই শ্মশানের মন্দির ভাঙচুর শুরু করে। ভাঙচুর শেষে তারা সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়।


স্থানীয় বাসিন্দা ষাটোর্ধ ফজলুল হক বলেন, আমি আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকে দেখে আসছি হিন্দুরা ওই শ্মশানে দাহ করে। শ্মশানের মন্দিরে পূজা করে। শুধু আমি নই, আমার দাদা ও বাবারাও দেখে আসছেন। তাদের কাছেও শুনেছি। হিন্দুরা আমাদের প্রতিবেশী। আমরা সবাই এক সাথে বসবাস করি। তাদের শ্মশান ভাঙচুর ও মন্দিরে আগুন দেওয়া ঠিক হয়নি। যারা এ কাজ করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক।

স্থানীয় বাসিন্দা নূর জাহান বেগম বলেন, সকালে অভিযুক্তরা ওই শ্মশানের মন্দির ভাঙচুর করে অগ্নি সংযোগ করে সেখানকার সব কিছু বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার করে। এ বিষয়ে বুড়া সাড়ডুবি সার্বজনীন মহাশশ্মানের সভাপতি স্বপন রায় বলেন, অনেক বছর ধরে আমরা ওই শ্মশান ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে মহল, রেজাউল, সাজু, দুলাল, মন্টুসহ আরও অনেকে শ্মশানের জমিটি নিজেদের দাবি করে আমাদের জমিটি ছেড়ে দিতে বলে। আমরা জমি ছেড়ে না দেওয়ায় তারা আমাদের শশ্মান ও মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর করেছেন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানায় একটি মামলা করা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো মন্দির ভাঙচুর করিনি। তারাই তাদের মন্দিরে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ওখানে কোনো শ্মশান ছিল না। ওই জমি আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু দিলীপ কুমার সিংহ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহ আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

https://www.kalbela.com/country-news/36169

Sunday, October 22

বিএনপি নেতাদের কাপড় বিতরণ করার জেরে মন্দিরের সম্পাদককে পিটিয়ে জখম

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদককে মারধর ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার ময়মনসিংহপট্টি এলাকায় বন্দর মন্দিরের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ বিএনপি নেতাদের বস্ত্র বিতরণের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁর ওপর এই হামলা হয়েছে।

আহত শিবু চন্দ্র দাস (৫২) বন্দর র‌্যালি লেজার্স সর্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।শিবু দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি নেতারা বন্দর র‌্যালি লেজার্স সর্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দিরের মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় দুস্থদের মধ্যে তাঁরা বস্ত্র বিতরণ করেন। মন্দিরে বস্ত্র বিতরণের খবর পেয়ে আগে থেকেই আওয়ামী লীগ কর্মী খান মাসুদ তাঁর লোকজন দিয়ে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। নিরাপত্তা চেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছিলাম। বস্ত্র বিতরণ শেষে খান মাসুদের লোকজন এসে আমাকে বেদম পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার বাঁ পায়ে ও হাতের আঙুলে কোপ লেগেছে।’ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে রাত সোয়া ১১টার দিকে তিনি বাসায় ফেরেন।

Saturday, October 7

Statement: JMBF Expresses Deep Concern and Protests against the Arrest of a Hindu Woman in Bagerhat on Allegations of Insulting the Islamic religion

Paris, France; October 7, 2023: JusticeMakers Bangladesh in France (JMBF) expresses profound concern and strong protest regarding the arrest of a Hindu minority woman on allegations of insulting the Islamic religion in Bagerhat, Bangladesh, on September 26, 2023. The human rights organization, JusticeMakers Bangladesh in France (JMBF), also calls for the immediate release of the arrested woman and the withdrawal of the false charges filed against her.

According to reliable sources, on September 24, 2023, in the Ramphal Union of Bagerhat district, a 45-year-old Hindu minority woman named Rupali Das was involved in a verbal altercation with an Islamic woman named Momena Begum when she went to fetch water at a tube well. Momena Begum, with malicious intent, accused Rupali Das of insulting Islam by using offensive language.

The next day, on September 25, 2023, local Islamic leaders mediated and compelled Rupali Das to publicly apologize to everyone present during a reconciliation meeting. Following this, female members of the local Islamic community patronized by the Islamic extremist demonstrated outside Rupali Das's house on September 26, 2023, demanding her arrest on blasphemy charges. In response to their allegations, an Islamist named Yashin Khandakar filed a false case against Rupali Das under section 153/298/506 of the penal code at the Ramphal Police Station. Consequently, the police immediately arrested her and produced her in court. Later, the court ordered her to be sent to jail custody.

Wednesday, October 4

ঝিনাইদহে রাতের আঁধারে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মন্দিরে দুর্গা প্রতিমা ছাড়াও কার্তিক, গণেশ, সরস্বতী ও লক্ষ্মীসহ অন্যান্য প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। প্রতিমাদের মাথার অংশসহ বিভিন্ন স্থান ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সনাতন সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের কালীতলা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমার প্রাথমিকভাবে মাটির কাজ করে রেখে যায় কারিগররা। এই অবস্থায় সোমবার রাতে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

কালীতলা সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিমা তৈরির এ অবস্থায় স্থানীয় গ্রামবাসীর পক্ষে কিছু স্বেচ্ছাসেবক মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতিমার পাহারা দিয়ে রাখত। সোমবার রাত সাড়ে ১১টার পরে তারা রাতের খাবার খেতে বাড়ি যায়। পরবর্তী রাত ১২টার পরে স্থানীয়রা দুর্গাপূজার মন্দিরে গেলে সেখানে বিভিন্ন প্রতিমা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পায়।

Monday, July 24

STATEMENT: JMBF expressed deep concern over the destruction of idols of four Hindu temples in Shariyatpur!

Paris, France: 23th July 2023: France-based human rights organization, JusticeMakers Bangladesh in France (JMBF), has expressed deep concern and condemnation regarding the attack and vandalism of idols at four temples in Chaikhgaon, Mahisar, and Rambhadrapur villages of Vedarganj Upazila in Shariatpur.

Tuesday, July 18

শরীয়তপুরে ৪ মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর

শরীয়তপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও, মহিসার ও রামভদ্রপুর গ্রামে ৪টি মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুর এবং মন্দিরে থাকা পূজার উপকরণ তছনছ করেছে দুবৃর্ত্তরা। এ ঘটনায় পুরো জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, সোমবার রাতে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ছয়গাঁও নিবাসী অনল কুমার দের বাড়িতে পারিবারিক কালীমন্দিরে হামলা চালিয়ে সরস্বতী প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুবৃর্ত্তরা। এখানে মন্দিরে সাজিয়ে রাখা পুজার বিভিন্ন উপকরণ তছনছ করেছে সন্ত্রাসীরা। একই রাতে ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মন্টু চন্দ্র দাসের বাড়িতে শিল্পা মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুবৃর্ত্ততা। এছাড়া গত পরশু একই উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামে কালীমন্দির ও মহিসার গ্রামে দ্বিগম্বরী মায়ের মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মহিসার দ্বিগম্বরী মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও মন্দিরের দানবাক্স ভেঙ্গে টাকা নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Friday, June 23

দোহারে মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর,আটক ০১

গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটায় ঢাকার দোহার উপজেলার জয়পাড়া সরকারি বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস সংলগ্ন দক্ষিণ জয়পাড়া দাসপাড়া একতা যুবসংঘের দূর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় রড দিয়ে মন্দিরের প্রধান প্রতিমা দূর্গাসহ ছয়টি মূর্তি ভাঙ্গা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সিদ্দিককে (১৮) হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সিদ্দিককে দোহার থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল ও দোহার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম মুস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

Wednesday, May 3

কুড়িগ্রামে মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা

ফুলবাড়ীতে প্রতিমা ভাঙচুরের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদ হোসেনসহ উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আজ দুপুরে উপজেলার রায়পাড়া গ্রামেছবি: প্রথম আলো


কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় চারটি পারিবারিক মন্দিরে ঢুকে আটটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরকমণ্ডল সীমান্তের রায়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রায়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বীরেন চন্দ্র বর্মণ জানান, তাঁর বাড়ির উঠানে রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে তিন যুগ ধরে গ্রামের সবাই পূজা-অর্চনা করে আসছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তাঁরা মন্দিরে প্রার্থনা করেন। আজ সকালে মন্দিরে এসে দেখতে পান, মন্দিরের ভেতরে প্রতিমাগুলো কেউ ভেঙে রেখে গেছে। আগে কোনো দিন তাঁদের গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন। তাঁদের ধারণা, আজ ভোররাতের দিকে দুর্বৃত্তরা প্রতিমাগুলো ভাঙচুর করেছে।

Wednesday, March 29

শরীয়তপুরে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ

আজ মঙ্গলবার ভোররাতের দিকে বণিক বাড়ির শিতলা মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছেছবি: প্রথম আলো

শরীয়তপুর শহরের একটি বাড়ির মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার ভোররাতের দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নিরালা আবাসিক এলাকার বণিক বাড়ির শিতলা মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন ওই বাড়ির লোকজন।

পালং মডেল থানা-পুলিশ ও বণিক বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বণিক বাড়ির অবস্থান জেলা কেন্দ্রীয় মন্দির পালং হরিসভার পাশের হিন্দু-অধ্যুষিত নিরালা আবাসিক এলাকায়। বণিক বাড়িতে পারিবারিক শিতলা মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা করা হয়। আজ সকালে ওই বাড়ির এক নারী পূজা দিতে মন্দিরের ভেতর ঢুকে দেখেন, একটি প্রতিমা ভাঙচুর করে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মন্দিরের অন্যান্য তৈজসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল।

পরে বাড়ির লোকজন বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানায়। পরে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র, পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন, শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরসহ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বণিক বাড়ির বাসিন্দা রতন বণিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে আমার মা মন্দিরে পূজা দেন। আজ সকাল ছয়টার দিকে মা মন্দিরে গিয়ে দেখেন, প্রতিমা বেদি থেকে নিচে পড়ে আছে। মন্দিরের জিনিসপত্রও তছনছ করা অবস্থায় পড়ে ছিল। ওই সময় মন্দিরের ভেতরে একটি মোমবাতি জ্বলছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, ভোররাতের দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি। আমাদের বাড়িতে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি।’

ADVERTISEMENT






বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের শরীয়তপুর জেলা কমিটির সভাপতি শংকর প্রসাদ চৌধুরী বলেন, তিন-চার মাস আগে জেলা কেন্দ্রীয় মন্দির পালং হরিসভার দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভির ফুটেজ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ এখনো কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। সম্প্রতি কোটাপাড়া পৌর শ্মশান থেকে লোহা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গত এক বছরে বিলাশখান কালীমন্দিরে তিন দফা চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সব কটি ঘটনা শহরের। কোনো ঘটনারই সঠিক তদন্ত হয়নি। এবার হিন্দু জনবসতিপূর্ণ একটি এলাকায় পারিবারিক মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

জানতে চাইলে ইউএনও জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্যে তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।


পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের সঙ্গে কারা জড়িত, তা অল্প সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করা হবে। এ ছাড়া গত এক বছরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে।

https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/m3rylzhhb9

Tuesday, February 7

ঠাকুরগাঁওয়ে ১২টি মন্দিরে হামলা, ১৪টি প্রতিমা ভাঙচুর

বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের সড়কের পাশে অবস্থিত ১২টি মন্দিরের ১৪টি প্রতিমা রাতের আঁধারে ভাংচুর করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।





বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল আনাম বলেন, গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি রাতে অজ্ঞাতরা এসব প্রতিমা ভাংচুর করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Monday, February 6

বালিয়াডাঙ্গীতে এক রাতে ১২ মন্দিরের ১৪টি প্রতিমা ভাঙচুর

ভাঙচুর করা মন্দিরের প্রতিমা। আজ রোববার ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর ধনতলার সিন্দুরপিণ্ডি এলাকাছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় এক রাতে ১২টি মন্দিরের ১৪টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের আটটি, পাড়িয়া ইউনিয়নের তিনটি ও চাড়োল ইউনিয়নের একটি মন্দিরের ওই ১৪টি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আজ রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন মন্দিরের প্রতিমাগুলো ভাঙচুরের ঘটনাটি দেখতে পান।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার গুপ্ত।

প্রবীর কুমার গুপ্ত জানান, গতকাল দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে ধনতলা ইউনিয়নের সিন্দুরপিণ্ডি এলাকার আটটি, পাড়িয়া ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকার তিনটি ও চাড়োল ইউনিয়নের সাহবাজপুর নাথপাড়া এলাকার একটি মন্দিরের ওই ১৪টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। বেশির ভাগ প্রতিমাই রাস্তার পাশে স্থাপিত মন্দিরের। সেসব মন্দিরে কালী, সরস্বতী, লক্ষ্মী ও মনসার প্রতিমা ছিল। সেসব প্রতিমার মাথা, হাত, পাসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আজ সকালে স্থানীয় লোকজন প্রতিমাগুলো ভাঙা অবস্থায় পেয়ে প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেন। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।