Friday, December 22

মাদারীপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার বিবাদীকে মারধরের অভিযোগ

মাদারীপুরের কালকিনিতে নোটিস দিতে গিয়ে মামলার বিবাদীকে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সসদ্যের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কালকিনি উপজেলার ফাসিয়াতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হেমায়েত মোল্লা কালকিনি থানার সহকারী উপ–পরিদর্শক (এএসআই)। আহত রাসেল সরদার ফাসিয়াতলা এলাকার সিরাজ সরদারের ছেলে। আজ শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নিশ্চিত করেছে।


জানা যায়, ফাসিয়াতলা এলাকার সিরাজ সরদারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে একই এলাকার লোকমান সরদারের। এ নিয়ে লোকমান সরদার ১৯ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাসিস্ট্রেট আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে সবধরনের কাজ করা থেকে বিরত রাখতে এবং বাদী ও বিবাদীতে ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। 

এই নোটিস নিয়ে বিবাদীর কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাদা পোশাকে ফাসিয়াতলা যান থানার এএসআই হিমায়েত মোল্লা ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। পরে বিবাদী সিরাজের ছেলে রাসেল সরদার পরিচয় জিজ্ঞেস করলে এএসআই হিয়ামেত মোল্লা রাসেলকে ব্যাপক মারধর করেন। এতে বিবাদীর ছেলে রাসেল সরদার আহত হন। পরে মারধরের ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাথে থাকা অপর পুলিশ সদস্যও রাসেলকে পুনরায় মারধর করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন। সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য দেন আহত রাসেল সরদার।

আহত রাসেল সরদার বলেন, ‘লোকমান সরদার দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করেই যাচ্ছে। তার এক ছেলে সুমন সরদার পুলিশের সদস্য। সেই প্রভাবেই থানা–পুলিশ দিয়ে আমাকে ব্যাপক মারধর করেছে। সাদা পোশাকে থাকা দুই পুলিশ নোটিস দেওয়ার নামে যেভাবে মারধর করেছে এটা মেনে নিতে পারছি না। এই হামলার বিচার চাই।

এ ব্যাপারে লোকমান সরদার বলেন, ‘আমার ছেলে দূরে পুলিশের চাকরি করে। আমরা কেউ তাকে কখনই হুমকি দিচ্ছি না। ১৪৪ ধারার নোটিস থানা পুলিশ দিতে এসেছি, আমরা এ ব্যাপারে কিছুই বলিনি। আর পুলিশের সাথে রাসেল বা তার পরিবারের কী সমস্যা হয়েছে, সেটাও জানি না। সেটা পুলিশ এবং রাসেলের পরিবারের ব্যাপার।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পুলিশের এএসআই হিমায়েত মোল্লা বলেন, ‘কেউ কি নোটিস দিতে গেলে বাদী বা বিবাদীকে মারধর করে। এটা বিবাদী মিথ্যে কথা বলছেন। আমরা কাউকে মারধর করিনি।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘যাকে মারধর করছে তিনি অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো ভিডিও থাকলে সেটা দেখে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

No comments:

Post a Comment