Thursday, August 31

মেয়ে সেজে চুরি, হিজড়া সেজে চাঁদাবাজি

সাধারণত শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন হলেও রফিক ও মনিরের কাছে এ দুই দিনই কর্মদিবস। কারণ, এ দুই দিন তাঁরা বন্ধ অফিসগুলোয় নিজেদের ‘কাজ’টি সারেন। তাঁরা যে অফিসেই যান, সেখানে ঢুকতেই মাথায় ঘোমটা দেন। ভেতর গিয়ে মাথায় ছাতাও ধরেন। কারণ, এসব জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকে। সেই ক্যামেরায় মুখ না দেখানোর জন্যই ঘোমটা ও ছাতার ব্যবহার! এরপর তাঁরা নিজেদের ‘কাজ’ শেষ হওয়ার পর সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দিয়ে আসেন।



রফিক ও মনির রাজধানীতে অভিনব এ কায়দায় দীর্ঘদিন ধরে চুরি করে আসছেন। মেয়ে সেজে চুরি করলেও রাস্তায় আবার তাঁরা সাজেন হিজড়া। হিজড়া সেজে তাঁরা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে মিরপুর থানার পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে চুরি করা সোনার কিছু গয়না ও চাঁদাবাজির টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পুরো নাম হলো মনির প্রকাশ ওরফে হিজলা মনির ওরফে প্রকাশ মণি (২৭) ও রফিক প্রকাশ ওরফে ডিমালি প্রকাশ ওরফে অপরূপা প্রকাশ রুপা (২৮)।

ADVERTISEMENT




উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনার গয়না, মুঠোফোনছবি: সংগৃহীত


মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ছেলে হলেও চুরি করেন মেয়ে সেজে। আবার সড়কে চাঁদাবাজি করেন হিজড়া সেজে। একটি চুরির মামলার তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে ধূর্ত এই চক্রের নাম।

ওসি মহসীন বলেন, ২৭ আগস্ট মিরপুর মডেল থানার ৬০ ফিট এলাকার ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস থেকে আড়াই লাখ টাকা ও দুটি মুঠোফোন চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চুরি করেছেন এক মেয়ে। তদন্ত করে অভিযান চালিয়ে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন দেখা যায়, চোর মেয়ে নন, ছেলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই মেয়ে সেজে চুরি করেন তাঁরা।

ঘরে রফিক, বাইরে রুপা!


গ্রেপ্তার রফিক বাইরে নিজেকে পরিচয় দেন রুপা নামে। একইভাবে আরেকজনের নাম মনির। তিনি বাইরে পরিচিত মণি নামেই। তাঁরা দুজনই ছেলে হলেও বাইরে তাঁরা কখনো হিজড়া হিসেবে, আর কখনো মেয়ে হিসেবেই পরিচয় দিতেন। তাঁরা চার বছর ধরে শতাধিক চুরি করেছেন। মেয়ে সেজে চুরি করার কারণে অধিকাংশ সময়ই তাঁদের শনাক্ত করা যায়নি। গোপন খবরের ভিত্তিতে আজ বিকেলে শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, ২টি মুঠোফোন, ১ ভরি ৫ আনা সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় দুটি করে মামলা রয়েছে।

No comments:

Post a Comment