Sunday, February 19

সমকামী থেকে ভয়ংকর অপহরণকারী যেভাবে

সাজানো সংসার কাজল ওরফে সোহাগ ওরফে সজনি হিজড়ার। রয়েছে ফুটফুটে দুটি সন্তানও। সমকামী হওয়ায় স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি তেমন টান কাজ করতো না তার। গোপনে অন্য সমকামীদের মনোরঞ্জন করে আয় করা শুরু করেন। এরই মধ্যে তার মাথায় আসে অপহরণ চিন্তা। হিজড়ার (তৃতীয় লিঙ্গ) বেশ ধরে রাস্তা থেকে মানুষ ধরে নিয়ে নগ্ন ভিডিও তুলে টাকা হাতিয়ে নিতে থাকেন। এ কাজে দরকার ছিল বেশ কয়েকজন সহযোগী। যা জোগাড়েও অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন সোহাগ। সমকামিতার মাধ্যমে উপার্জিত টাকা লোন (ঋণ) দিতেন নিম্ন আয়ের মানুষদের। যারা লোন পরিশোধ করতে পারতো না তাদের অপহরণ চক্রে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিতেন। এভাবে ভয়ংকর এক অপহরন চক্র গড়ে তোলেন সোহাগ।




রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে এক কলেজ ছাত্রকে তুলে নিয়ে নগ্ন ভিডিও ফাঁদে ফেলে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর এই চক্রের মূলহোতা সোহাগসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মাহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- নাছির, আমানুর মন্ডল, রাজু, আব্দুর রহমান ও হৃদয় মিয়া।

ডিবি বলছে, দীর্ঘদিন থেকে এই চক্রের সদস্যরা কৌশলে অসংখ্য লোকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা।

শনিবার ডিবির ওয়ারী বিভাগের এডিসি মো. তরিকুর রহমান বলেন, ২৩ জানুয়ারি বিকেল সোয়া তিনটার দিকে রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিার্থী সাইফুল কলেজ থেকে বাসায় ফিরছিলেন। এসময় যাত্রাবাড়ী থানার চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বের কাছাকাছি পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা সাত-আটজন পুরুষ ও তাদের সঙ্গে থাকা একজন হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) তার পথরোধ করে। পরে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে অচেতন করে তাকে কৌশলে কাছাকাছি একটি মেসের কাছে নিয়ে বন্দী করে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) লোকটি (সোহাগ) একজন পতিতাসহ (যৌনকর্মী) সেই মেসের কাছে প্রবেশ করে ভুক্তভোগীকে উলঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দেয়। ভুক্তভোগী রাজি না হলে হিজড়ার সাঙ্গপাঙ্গরা সেই মেসের কাছে প্রবেশ করে ভিকটিমকে বেধড়ক মারপিট করে ও পতিতার (যৌনকর্মী) সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলতে বাধ্য করে।

তিনি আরো বলেন, চক্রটি ভুক্তোভোগীর ব্যাগে থাকা নগদ এক লাখ ৬৬ হাজার টাকা ও মানিব্যাগ কেড়ে নেয় এবং আরো টাকা দাবি করে। অন্যথায় ইন্টারনেটে মোবাইল ফোনে তোলা আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেয়ার (ভাইরাল করার) হুমকি দেয়। এতে ভুক্তভোগী ভীত হয়ে তার আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে আরো নগদ ২৪ হাজার টাকা বিকাশ করে দেয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদি হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা (নম্বর-৩৫) দায়ের করেন। ওই মামলার ছায়া তদন্ত শেষে জড়িত আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে শুক্রবার মধ্যেরাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে দুইদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ডিবি কর্মকর্তা।
https://www.bhorerkagoj.com/2023/02/18/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%80-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AD%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%B9%E0%A6%B0%E0%A6%A3/?fbclid=IwAR3InE5I2B_bwHKVHmTlB8ZZ1z2uUMC6hrl0FHhCTlVOnVMUipnGzEOf1Ls

No comments:

Post a Comment