Monday, February 20

মাদ্রাসা ছাত্রকে ধর্ষণ, শিক্ষকের যাবজ্জীবন


দণ্ডিত শিক্ষক ঢাকার দক্ষিণখান থানার সরদার বাড়ি আলকাসিম মারকাজুত তাহফিজ মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন

ঢাকার এক মাদ্রাসার নয় বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সামছুন্নাহার রোববার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে যাবজ্জীবন সাজার পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডিত শিক্ষক মো. হাসমত আলীকে ঢাকার দক্ষিণখান থানার সরদার বাড়ি আলকাসিম মারকাজুত তাহফিজ মাদ্রাসার নাজারা বিভাগে কাজ করতেন। নিপীড়নের শিকার শিশুটিও নাজারা বিভাগের ছাত্র ছিল।



নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় আসামিকে এই সাজা দিয়েছে আদালত। ওই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

রায় ঘোষণার সময় হাসমত আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্র পক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি আলী আসগর স্বপন।

তিনি বলেন, রায় শুনে হাসমত আলী ও তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিচারকের রায় পড়া শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে হাসমত আলীকে কারাগারে পাঠানো হয়।



মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর ওই শিক্ষার্থীকে ‘বলাৎকার’ করেন হাসমত আলী। বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি দেন তিনি। শিশুটি ঘটনাটি তার মাকে জানায়। পরে তার মা ওই বছরের ১ ডিসেম্বর দক্ষিণখান হাসমত আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত করে দক্ষিণখান থানার সাব-ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম হাসমত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরের বছর ২০২০ সালের হাসমতের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করা হয়।

No comments:

Post a Comment