নওগাঁয় হাজতীর মৃত্যু শীর্ষক খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে বিষয়টির গুরুত্ত্ব অনুধাবন করে মানবাধিকার প্রতিষ্টান জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ এর প্রতিষ্টাতা মহাসচিব, গ্লোবাল হিঊম্যান রাইটস ডিফেন্স, নেদারল্যান্ডস এর কান্ট্রি অবজারভার ও মাসিক দোয়েল এর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শাহানুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তথ্যানুসন্ধান দল গত ২৫ থেকে ২৯ শে ডিসেম্বর ২০১১ ইং তারিখ পর্যন্ত ঘট্নাটি সরেজমিন তথ্যানুসন্ধান করেন। এসময় তথ্যানুসন্ধানদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ভিক্টিমের স্ত্রী, স্থানীয় জনতা, চিকিৎসক, স্থানীয় প্রশাসন, অভিযুক্ত ব্যাক্তিসহ ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ এবং ঘট্নাসংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র, পত্রিকায় প্রকাশিত খবর ও বিশেষজ্ঞ মতামত সংগ্রহপূর্বক বিশ্লেষন করেন।
ভিক্টিমের পরিচয়ঃ
ভিক্টিমের নামঃ মোঃ আব্দুল বারিক দুলু (৪৫)
ভিক্টিমের পিতার নামঃ মৃত লাহর উদ্দিন
ভিক্টিমের ঠিকানাঃ গ্রামঃ দক্ষিন কান্দা (মিস্ত্রী পাড়া), ডাকঃ মিঠাপুর, থানাঃ বদলগাছি,
জেলাঃ নওগাঁ।
ভিক্টিমের ধর্মঃ ইসলাম (সুন্নী)
ভিক্টিমের শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ এইচ এস সি
ভিক্টিমের পেশাঃ ব্যবসায়
ভিক্টিমের বৈবাহিক অবস্থাঃ বিবাহিত, দুই শিশু কন্যার জনক
ঘটনার তারিখ ও স্থানঃ
গ্রেফতারের তারিখঃ ২০ ডিসেম্বর ২০১১, আনুমানিক বেলা ১১ টা;
গ্রেফতারের স্থানঃ খাদাইল বাজার, বদলগাছি, নওগাঁ;
হাসপাতালে ভর্তির তারিখঃ ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১, আনুমানিক সকাল ৮টা;
মৃত্যুর তারিখঃ ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট;
অভিযুক্তদের পরিচয়ঃ
১। মিঃ রবিউল ইসলাম, উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই), বদলগাছি থানা পুলিশ, নওগাঁ।
২। মিঃ তৌহিদুল আলম, উপ-পরিদর্শক(এসআই), বদলগাছি থানা পুলিশ, নওগাঁ।
৩। মিঃ কারিবুল হাসান, উপ-পরিদর্শক(এসআই), বদলগাছি থানা পুলিশ, নওগাঁ।
৪। মিঃ রফিকুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক(এসআই), বদলগাছি থানা পুলিশ, নওগাঁ।
৫। মিঃ আব্দুল রাজ্জাক, সিপাহী, বদলগাছি থানা পুলিশ, নওগাঁ।
৬। মিঃ মাহফুজুল হক, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বদলগাছি থানা পুলিশ, নওগাঁ।
৭। মিঃ আনোয়ারুজ্জামান, জেল সুপারিন্টেন্ড, নওগাঁ কারাগার, নওগাঁ।
ঘটনার বিবরনঃ
তথ্যানুসন্ধান দলের প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় যে, ২০১১ সালের প্রথম দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত প্রতারনা মামলায় বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম ঢাকা নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানাধীন মিঠাপুর ইউনিয়নের দক্ষিন কান্দা (মিস্ত্রি পাড়া) গ্রামের মৃত লাহর উদ্দীনের ছেলে আব্দুল বারিক দুলু’র বিরুদ্ধে গ্রেফতারী ও মালামাল ক্রোক পরোয়ানা আদেশ জারী করে । স্থানীয় থানা হিসেবে নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানা পুলিশ এই আদেশ পালন করার দায়িত্ব পান । কিন্তু থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার ও তাঁর বাড়ীর মালামাল ক্রোকের পরিবর্তে ভিক্টিম দুলুকে অবৈধ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে ঘুষ দাবী করেন।
ভিক্টিম আব্দুল বারিক দুলু অনোন্যপায় হয়ে বদলগাছী থানা পুলিশকে ঘুষ প্রদান করে সে যাত্রা গ্রেফতার ও তাঁর বাড়ীর মালামাল ক্রোকের হাত থেকে রেহায় পান। এভাবে প্রায় একবছর ধরে তাঁর কাছ থেকে নিয়মি্ত প্রচুর পরিমানে ঘুষ গ্রহনের মাধ্যমে থানা পুলিশ তাদের উপর ন্যাস্ত পবিত্র দ্বায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকে। থানা পুলিশকে ঘুষ প্রদান করতে করতে ভিক্টিম পু্নরায় ঘুষ প্রদানে অনিহা প্রদর্শন করলে অবশেষে গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১১ ইং তারিখে বদলগাছি থানা পুলিশের উপসহকারী পরিদর্শক রবিউল ইলাম ও সিপাহী আব্দুর রাজ্জাক ভিক্টিমের বাড়ী্তে যান এবং সেদিন ভিক্টিমকে না গ্রেফতার করা ও বাড়ীর মালামাল ক্রোক না করার শর্তে ভিক্টিমের স্ত্রী মোছাঃ আফরোজা বেগমের নিকট থেকে ২০,০০০/= (কুড়ি হাজার) টাকা ঘুষ দাবী করেন। কিন্তু ভিক্টিমের স্ত্রীর নিকট সে মুহুর্তে টাকা না থাকায় তা দিতে অপারগ হলে পুলিশদ্বয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারের উপস্থিতিতে তাঁর বাড়ীর যাবতীয় মালামালের তালিকা তৈরি করেন।
এসময় অনোন্যপায় হয়ে গ্রেফতার এড়াতে ও বাড়ীর মালামাল ক্রোকের হাত থেকে রেহায় পেতে ভিক্টিম দুলু ব্যাক্তিগতভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এএসআই রবিউল ইসলাম ও স্থানীয় মেম্বার মোঃ আব্দুল জলিলের সাথে কথা বলে ১৮ ডিসেম্বর ২০১১ ইং তারিখে ১০,০০০/= (দশ হাজার) টাকা ঘুষ দেবার অঙ্গীকার করেন। তাছাড়া একইসময় এএসআই রবিউল ইসলাম আগামী দুই মাসের মধ্যে তাঁকে গ্রেফতার ও মালামাল ক্রোক না করার শর্তে আরও ৫০০০০/= (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ঘুষ দাবী করেন এবং ২৮ শে ডিসেম্বর ২০১১ ইং তারিখের মধ্যে ভিক্টিম ২০,০০০/= (কুড়ি) হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে প্রদান করবেন বলে মৌখিক সিদ্ধান্ত হলে পুলিশদ্বয় তাকে গ্রেফ্তার বা তাঁর বাড়ীর মালামাল না ক্রোক করে ফিরে যান। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর ২০১১ ইং তারিখে স্থানীয় মেম্বার মোঃ আব্দুল জলিল থানা চত্তরে উপস্থিত হয়ে এএসআই রবিউল ইসলামকে ৫,০০০/= (পাঁচ হাজার) টাকা ঘুষ প্রদান করেন।
ইতোমধ্যে এস আই তৌহিদুল আলমের নেতৃত্বে বদলগাছি থানা পুলিশের একটি দল গত ২০ ডিসেম্বর ২০১১ ইং তারিখ আনুমানিক বেলা ১১ ঘটিকার সময় উক্ত থানাধীন খাদাইল বাজার থেকে ভিক্টিমকে গ্রেফতার করেন। ভিক্টিমের স্ত্রী মোছাঃ আফরোজা বেগম তাঁর গ্রেফতারের খবর পেয়ে বদলগছী থানায় গিয়ে তাঁকে সুস্থ আবস্থায় রেখে আসেন।
পরদিন ২১ ডিসেম্বর ২০১১ ইং তারিখ সকালে ভিক্টিম গুরুত্বর অসুস্থ বলে থানা পুলিশ মোবাইল ফোনে তাঁর স্ত্রীকে জানালে তিনি তাঁর ছোট বোন ইয়াসমিন আখতার বুলবুলিকে সাথে নিয়ে বদলগাছি থানায় যান। সেকখানে তিনি তাঁর স্বামীকে গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় থানা হাজতের মেঝেতে শায়িত অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তিনি এক পুলিশ সদস্যকে তাঁর স্বামীর জরুরী চিকিৎসা করার অনুরোধ করলে কারিবু্ল হাসান নামক পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টর তাকে থানা চত্ত্বরের এক পাশে ডেকে চিকৎসা করার জন্য ঘুষ দাবী করেন। সে সময় ভিক্টিমের স্ত্রীর নিকট যতেষ্ট টাকা না থাকায় উক্ত পুলিশ অফিসারকে পরবরর্তীতে ঘুষ দিবেন বলে অঙ্গীকার করেন। ইতোমধ্যে, ভিক্টিমের শালী ইয়াসমিন আখতার বুলবুলি তাঁর দুলাভাইকে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে উপস্থিত পুলিশের এক সদস্যের কাছে জানতে চাইলে তাঁর দুলাভাইকে নির্যাতন করা হয় নি, তবে ভিক্টিম অসু্স্থ হয়ে না পড়লে তাঁকে গাছে টাঙ্গিয়ে পেটানো হত বলে তিনি মুচকি হেসে জবাব দেন।
অতঃপর বেলা আনুমানিক ১১ টার সময় বদগাছি থানা পুলিশের সিপাহী ইয়াসিন আলী ও তৌহিদুল ইসলাম ভিক্টিমকে নিয়ে বদলগাছি থানা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায় এবং সেখানে বহিঃ বিভাবে দায়সারা চিকিৎসা করে নওগাঁ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
অতঃপর, ভিক্টিমের স্ত্রীও শালী নওগাঁ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পৌছলে সেখানে তারা ভিক্টিমকে আদালত হেফাজতের একটি ব্রেঞ্চ এর উপর শায়িত অবস্থায় দেখেন। সে সময় ভিক্টিম তাদেরকে দেখে উঠার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এসময় ভিক্টিমের স্ত্রীও শালী তাঁর সাথে দেখা করে কথা বলার অনুমতি দেওয়ার জন্য আদালত পুলিশকে অনুরোধ করলে প্রথমে তারা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ দাবী করেন। ভিক্টিমের স্ত্রীও শালী তাদেরকে ঘুষ প্রদান করে ভিক্টিমের সাথে দেখা করেন। এসময় তারা তাঁকে নির্যাতন করা হয়ছে কিনা জিজ্ঞেস করলে ভিক্টিম কাদতে কাদতে এ প্রশ্ন আর জিজ্ঞেসা করতে বারন করেন। অতঃপর্, ভিক্টিমের স্ত্রীও শালী তাঁকে সহযোগীতা করে ব্রেঞ্চ এর উপর বসানোর চেষ্টা করে এবং তখন তারা ভিক্টিমের মাজায় কোন শক্তি নেই এবং মাজার দুই পাশে ইলেক্ট্রিক শক দেওয়ার মত চিহ্ন দেখতে পান।
ভিক্টিমের স্ত্রী |
অতঃপর, ভিক্টিমকে পুলিশের সহযোগীতায় বিজ্ঞ আদালতের সামনে হাজির করা হলে, আদালত তাঁকে উপযূক্ত চিকৎসা প্রদানের নির্দেশসহ জেল হাজতে প্রেরন করেন। নওগাঁ জেল কর্তৃপক্ষ তাঁ শারীরিক অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাঁকে সেদিন কারা হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২১ শে ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ভিক্টিমের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে কারা ফার্মাসিষ্ট তাঁকে উন্নত চিকৎসার জন্য কারা-হাসপাতালের বাহিরে রেফার্ড করেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে তাৎক্ষনিকভাবে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা না করে পরদিন ২২ শে ডিসম্বর ২০১১ ইং তারিখ সকালে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় ইউ পি চেয়ারম্যান |
এদিন দুপুরে ভিক্টিমের স্ত্রী তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থা জানার জন্য নওগাঁ জেলা কারাগারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে প্রথমে তারা তা জানাতে তালবাহনা করলেও পরবর্তীতে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান। তখন তিনি হাসপাতালে গিয়ে দেখেন যে ভিক্টিমের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মোটা রশি দিয়ে হাসপাতাল বেডের সাথে বেধে রাখা আছে। এছাড়া তিনি আরো দেখেন যে অসুস্থ ভিক্টিমের দু পায়ে ডান্ডা বেরী পরিয়ে মাজার সাথে আটকানো আছে। আর ভিক্টিম কষ্টে ছট-ফট ও তা খুলে দেওয়ার জন্য অনুনয় বিনয় করছে। ভিক্টিমের এহেন অবস্থা দেখে তাঁর স্ত্রী তাঁর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে দায়িত্ত্বরত কারা পুলিশ তাকে যেতে বাধা দেয়। অনেক অনুনয় বিনয় করার পর দায়িত্ত্বরত কারা পুলিশ তাকে ভিক্টমের কাছে খুব অল্প সময়ের জন্য যাওয়ার অনুমতি দেন।
তথ্যানুসন্ধান দলকে হুমকি প্রদানকারী পুলিশ এস আই রফিকুল ইসলাম |
এসময় ভিক্টিমের স্ত্রী দেখেন যে তাঁর স্বামী কষ্টে পরনের কাপরে প্রসাব-পায়খানা করে মাখা মাখি করে ফেলেছে এবং ডান্ডা বেরী খু্লে দেওয়ার জন্য অনুনয় করছে। ভিক্টিমের পরনের কাপর পরিবর্তন করে ভিক্টিমের স্ত্রী দায়িত্ত্বরত কারা পুলিশদের ডান্ডা বেরী খু্লে দেওয়ার জন্য অনুনয় করলে তারা পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় এবং জেল গেট থেকে ডান্ডা বেরী খুলে দেওয়ার অনুমতি আনার পরামর্শ দেয়। এসময় ভিক্টিমের স্ত্রী আবারও তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা তা জিজ্ঞেস করলে তিনি তাঁর স্ত্রীকে তখন সেসব নিয়ে না ভেবে তাঁর ভালো চিকৎসা করানোর পরামর্শ দেন এবং বলেন যে, সেসব নিয়ে পড়ে কথা বলা যাবে। ইতোমধ্যে ভিক্টিমের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে তাঁর স্ত্রী কান্না কাটি শুরু করে এবং তখন একদল চিকিত্সক এসে ভিক্টিমকে সালাইন দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু স্যালাইন দেওয়ার আগেই সন্ধ্যা আনুমানি্ক ৭ টা ১৫ মিনিটের সময় ডান্ডা বেরী পরা অবস্থায় ভিক্টিম মৃত্যু বরন করন।
ভিক্টিমের দুই শিশু কন্যা |
অতঃপর, মৃত্যুর আনমানিক আধাঘন্টা পরে ভিক্টিমের হ্যান্ড কাফ ও ডান্ডা বেরী খুলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশ ভিক্টিমের মৃত দেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং ময়না তদন্ত শেষে ভিক্টিমের মৃতদেহ তাঁর আত্বীয় স্বজনের হাতে হস্তান্তর করেন।
তথ্যানুসন্ধান দলের পর্যবেক্ষনসূমহ:
তথ্যানুসন্ধানদল ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, ভিক্টিমের স্ত্রী, আত্বীয়, স্থানীয় জনতা, চিকিৎসক, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশসহ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং মামলা সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র, পত্রিকায় প্রকাশিত ঘটনা সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিশ্লেষন করে পর্যবেক্ষনমূলক সিদ্ধান্তে উপনিত হন যে-










জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ এর সুপারিশসুমূহ:
ঘটনাটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং এই লজ্জাকর মানবাধিকার লঙ্ঘন বিনা প্রতিকারে মেনে নেওয়া যায় না। বেঁচে থাকার অধিকার একটি অনস্বীকার্য মৌলিক মানবাধিকা। তাছাড়া, সকল মানুষের সঠিক চিকিৎসা পাওয়া ও নির্যাতনের হাত থেকে রেহায় পাওয়া অধিকার রয়েছে। পুলিশ কর্তৃক ঘুষের দাবীতে উল্লেখিত নির্যাতন ও সঠিক চিকিৎসায় অবহেলা করা বাংলাদেশ সংবিধান ও বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিসমূহের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারন, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যাক্তি স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাছাড়া, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনা পত্রের ০৩ নং ধারা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির ০৫ নং ধারায় প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যাক্তি স্বাধীনতার অধিকার স্বীকার করা হয়েছে।
এমনিভাবে, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৫ (৫) নং অনুচ্ছেদে নির্যাতনকে সম্পূর্নভাবে নিশিদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনা পত্রের ০৫ নং ধারা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির ০৬ নং ধারা সকল প্রকার নির্যতনকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছে। এছাড়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চুক্তি-১৯৮৪ তে নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে।
আবার বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫ (৫) নং অনুচ্ছেদে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, আশ্রয় ও চিকিৎসাসহ জীবন ধারনের মৌলিক উপকরনের ব্যাবস্থা’র আধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তাছাড়া, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনা পত্রের ২৫ নং ধারা ও সামাজিক,অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির ১২ নং ধারা প্রত্যেক নাগরিকের সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং উল্লেখিত চুক্তিগুলোর সদস্য রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ চুক্তিগুলো মানতে বাধ্য অর্থাৎ প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যাক্তি স্বাধীনতা প্রদান, সঠিক চিকিৎসা প্রদানের ব্যাবস্থা করা ও নির্যাতন প্রতিরোদধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করতে বাধ্য।
জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ উপরোল্লিখিত মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত ঘটনার দ্রুত সম্পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যাক্তিদের বিরদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ভিক্টিমের পরিবারকে উপযুক্ত শারীরিক ও মানষিক চিকিৎসা সেবা প্রদান ও উপর্যুক্ত ক্ষতিপুরনসহ তাদের পুনর্বাসনের জোর দাবীসহ নিম্বলিখিত সুনির্দিষ্ট দাবী জানাচ্ছেঃ










এডভোকেট শাহানূর ইসলাম সৈকত
প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক, জাষ্টিসমেকার্স বাংলাদেশ, ঢাকা
কান্ট্রি অবজারভার-বাংলাদেশ, গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস ডিফেন্স, নেদারল্যান্ডস
মোবাইল ফোনঃ ০১৭২০৩০৮০৮০, ০১৫৫৪৬০৪১৬০
No comments:
Post a Comment